আজ ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

কপোতাক্ষে খেরশা-শালিখা ব্রিজের কাজ মাঝপথে বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১২:২৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৭ বার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: কপোতাক্ষ নদের ওপর সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেরশা ইউনিয়ন ও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লাড়ুলি ইউনিয়নকে সংযুক্ত করার জন্য নির্মিতব্য খেরশা-শালিখা ব্রিজের কাজ প্রায় তিন বছর ধরে চলছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে উধাও হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৮০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ ও ৪৪ মিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় প্রাক্কলিত ১১ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ১৬৮ টাকা। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১১ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

পাইকগাছা এলজিইডি সূত্র জানায়, খুলনার ‘জিয়াউল ট্রেডার্স’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায় এবং প্রাথমিকভাবে কিছু অগ্রগতি ঘটায়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তারা হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেয় এবং রাতের আঁধারে যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়। বর্তমানে ব্রিজের দু’পারে অসম্পূর্ণ ৪টি পিলার ও কিছু নির্মাণ সামগ্রী পড়ে আছে।

কাটিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন,
“ব্রীজটি হলে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতো, সময় ও দূরত্ব বাঁচত। কিন্তু মাঝপথে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা আবার হতাশ হয়েছি।”
লাড়ুলি গ্রামের ইজিবাইক চালক নূর ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এই যুগে যদি এত বড় নদী সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়, তাহলে আমরা কত পিছিয়ে আছি, তা বলাই বাহুল্য।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আবুল হোসেন জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শ্রমিকরা বাড়ি চলে যায় এবং পাওনা পরিশোধে সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া বিল উত্তোলন নিয়েও এলজিইডি অফিসে জটিলতা আছে। সমাধান হলে কাজ আবার শুরু করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।

পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব বলেন, ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দিলেও সাড়া মেলেনি। কাজ বাতিলের জন্য দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্রিজের কাজ পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

কপোতাক্ষে খেরশা-শালিখা ব্রিজের কাজ মাঝপথে বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট টাইম : ১২:২৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: কপোতাক্ষ নদের ওপর সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেরশা ইউনিয়ন ও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লাড়ুলি ইউনিয়নকে সংযুক্ত করার জন্য নির্মিতব্য খেরশা-শালিখা ব্রিজের কাজ প্রায় তিন বছর ধরে চলছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে উধাও হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৮০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ ও ৪৪ মিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় প্রাক্কলিত ১১ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ১৬৮ টাকা। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১১ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

পাইকগাছা এলজিইডি সূত্র জানায়, খুলনার ‘জিয়াউল ট্রেডার্স’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায় এবং প্রাথমিকভাবে কিছু অগ্রগতি ঘটায়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তারা হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেয় এবং রাতের আঁধারে যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়। বর্তমানে ব্রিজের দু’পারে অসম্পূর্ণ ৪টি পিলার ও কিছু নির্মাণ সামগ্রী পড়ে আছে।

কাটিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন,
“ব্রীজটি হলে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতো, সময় ও দূরত্ব বাঁচত। কিন্তু মাঝপথে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা আবার হতাশ হয়েছি।”
লাড়ুলি গ্রামের ইজিবাইক চালক নূর ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এই যুগে যদি এত বড় নদী সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়, তাহলে আমরা কত পিছিয়ে আছি, তা বলাই বাহুল্য।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আবুল হোসেন জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শ্রমিকরা বাড়ি চলে যায় এবং পাওনা পরিশোধে সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া বিল উত্তোলন নিয়েও এলজিইডি অফিসে জটিলতা আছে। সমাধান হলে কাজ আবার শুরু করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।

পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব বলেন, ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দিলেও সাড়া মেলেনি। কাজ বাতিলের জন্য দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্রিজের কাজ পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।