আজ ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

বাংলাদেশ বিমানের সতর্ক নজরদারিতে ড্রিমলাইনার

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৮:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • ১১৩ বার

সম্প্রতি ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর নিজেদের বহরে থাকা ড্রিমলাইনারগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সম্প্রতি ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর বহরে থাকা ড্রিমলাইনারগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সংস্থাটি বোয়িং ৭৮৭ মডেলের উড়োজাহাজগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও ব্যবস্থার মান যাচাই শুরু করেছে।

আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর পরই ১২ জুন বিধ্বস্ত হয় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক নির্মাতা সংস্থা বোয়িংয়ের তৈরি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ছিল সেটি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২৭০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানের বহরে বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ রয়েছে ছয়টি, যেগুলো যুক্ত হয়েছে ২০১৮-১৯ সালে। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ও দুটি ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজ। এসব ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান।

ভারতে দুর্ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এ মডেলের উড়োজাহাজগুলোর ইঞ্জিন ফুয়েল সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ইঞ্জিন কন্ট্রোল, ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার, হাইড্রোলিক সিস্টেম, এয়ার কন্ডিশনিং, ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদির মান যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা পরিচালনা এবং ইঞ্জিনের পাওয়ার অ্যাসুরেন্স চেক করার কার্যক্রম শুরু করেছে বিমান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত হয়, যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ-সম্পর্কিত যেসব নির্দেশনা দেয়া হবে তা সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য বিমানের প্রকৌশল বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

আরো বলা হয়, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে বিমানের প্রকৌশল বিভাগ এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম অনুসরণ করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সর্বদা যাত্রী নিরাপত্তা ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সম্পন্ন করে।

বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে সমস্যায় পড়ছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। আকাশে থাকা অবস্থায় হঠাৎ উচ্চতা হ্রাস, উইন্ডশিল্ডে ফাটলসহ বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ছে প্রায়ই। এ মডেলের উড়োজাহাজে বড় ধরনের নির্মাণ ত্রুটির অভিযোগের বিষয়টি বৈশ্বিক আকাশ পরিবহন খাতের জন্য দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে থাকা উড়োজাহাজেও বিভিন্ন সময় দেখা দিচ্ছে কারিগরি ত্রুটি।

বাংলাদেশ বিমানের বহরে বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ রয়েছে ছয়টি, যেগুলো যুক্ত হয়েছে ২০১৮-১৯ সালে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে এ মডেলের উড়োজাহাজে উইন্ডশিল্ডে ফাটলের দুটি ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিমানের ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট পরিচালানা করা হয় বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটির উইন্ডশিল্ডে ফাটল দেখা দেয়। ২ ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি আবার ঢাকায় জরুরি অবতরণ করানো হয়।

আরেকটি ঘটনা গত ৮ সেপ্টেম্বরের। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-০৩৪৮। গন্তব্য ছিল ঢাকা। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি যখন ওমানের আকাশে তখন ফ্রন্ট উইন্ডশিল্ডে ফাটল ধরা পড়ে। ঝুঁকি এড়াতে ফ্লাইটটি আবার দুবাই বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নেয়া হয়। পরদিন উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ পাঠিয়ে ওই ফ্লাইটের ২৪৪ যাত্রীকে ঢাকায় আনা হয়।

বিমানের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে শুধু উইন্ডশিল্ডে ফাটল নয়, চলতি বছর ফ্লাইট পরিচালনার সময় অন্তত দুটি যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে দুবাইগামী একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। ত্রুটি সারিয়ে প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর ফ্লাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। গত ১৪ মে ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি ভারতের আকাশসীমা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

বাংলাদেশ বিমানের সতর্ক নজরদারিতে ড্রিমলাইনার

আপডেট টাইম : ০৮:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

সম্প্রতি ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর নিজেদের বহরে থাকা ড্রিমলাইনারগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সম্প্রতি ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর বহরে থাকা ড্রিমলাইনারগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সংস্থাটি বোয়িং ৭৮৭ মডেলের উড়োজাহাজগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও ব্যবস্থার মান যাচাই শুরু করেছে।

আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর পরই ১২ জুন বিধ্বস্ত হয় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক নির্মাতা সংস্থা বোয়িংয়ের তৈরি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ছিল সেটি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২৭০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানের বহরে বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ রয়েছে ছয়টি, যেগুলো যুক্ত হয়েছে ২০১৮-১৯ সালে। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ও দুটি ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজ। এসব ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান।

ভারতে দুর্ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এ মডেলের উড়োজাহাজগুলোর ইঞ্জিন ফুয়েল সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ইঞ্জিন কন্ট্রোল, ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার, হাইড্রোলিক সিস্টেম, এয়ার কন্ডিশনিং, ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদির মান যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা পরিচালনা এবং ইঞ্জিনের পাওয়ার অ্যাসুরেন্স চেক করার কার্যক্রম শুরু করেছে বিমান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত হয়, যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ-সম্পর্কিত যেসব নির্দেশনা দেয়া হবে তা সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য বিমানের প্রকৌশল বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

আরো বলা হয়, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে বিমানের প্রকৌশল বিভাগ এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম অনুসরণ করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সর্বদা যাত্রী নিরাপত্তা ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সম্পন্ন করে।

বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে সমস্যায় পড়ছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। আকাশে থাকা অবস্থায় হঠাৎ উচ্চতা হ্রাস, উইন্ডশিল্ডে ফাটলসহ বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ছে প্রায়ই। এ মডেলের উড়োজাহাজে বড় ধরনের নির্মাণ ত্রুটির অভিযোগের বিষয়টি বৈশ্বিক আকাশ পরিবহন খাতের জন্য দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে থাকা উড়োজাহাজেও বিভিন্ন সময় দেখা দিচ্ছে কারিগরি ত্রুটি।

বাংলাদেশ বিমানের বহরে বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ রয়েছে ছয়টি, যেগুলো যুক্ত হয়েছে ২০১৮-১৯ সালে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে এ মডেলের উড়োজাহাজে উইন্ডশিল্ডে ফাটলের দুটি ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিমানের ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট পরিচালানা করা হয় বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটির উইন্ডশিল্ডে ফাটল দেখা দেয়। ২ ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি আবার ঢাকায় জরুরি অবতরণ করানো হয়।

আরেকটি ঘটনা গত ৮ সেপ্টেম্বরের। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-০৩৪৮। গন্তব্য ছিল ঢাকা। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি যখন ওমানের আকাশে তখন ফ্রন্ট উইন্ডশিল্ডে ফাটল ধরা পড়ে। ঝুঁকি এড়াতে ফ্লাইটটি আবার দুবাই বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নেয়া হয়। পরদিন উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ পাঠিয়ে ওই ফ্লাইটের ২৪৪ যাত্রীকে ঢাকায় আনা হয়।

বিমানের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে শুধু উইন্ডশিল্ডে ফাটল নয়, চলতি বছর ফ্লাইট পরিচালনার সময় অন্তত দুটি যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে দুবাইগামী একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। ত্রুটি সারিয়ে প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর ফ্লাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। গত ১৪ মে ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি ভারতের আকাশসীমা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।