আজ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

৭১ নারীসহ রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ১৯৯ শান্তিরক্ষী

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৭:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • ১৩১ বার

বর্তমানে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সাউথ সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ১২৮ জন পুরুষ ও ৭১ জন নারীসহ ১৯৯ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার।

বুধবার (২৮ মে) সদর দপ্তরের এ আই জি মিডিয়া ইনামুল হক সাগর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। ইনামুল হক সাগর আরও জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৫। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হবে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের পদযাত্রা সূচিত হয় ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে। শুরু থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ পুলিশের ২১ হাজার ৮১৫ জন শান্তিরক্ষী ২৪টি দেশে ২৬টি মিশনে পেশাদারত্ব ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের ২৪ জন শান্তিরক্ষী। বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যগণ বিগত ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯২৭ জন নারী পুলিশ শান্তিরক্ষী বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সাথে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন।

১৯৮৯ সালের পূর্বে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ পুলিশের কাজ করার কোনো ধরনের সুযোগ ঘটেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালনের ফলে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দেশের পুলিশিং সম্পর্কে জানার সুযোগ ঘটেছে, অনেক দেশের পুলিশের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে। এ ধরনের বহুমাত্রিকতায় পুলিশ সদস্যরা নিজেদের মধ্যে পরিবর্তনের এক ধরনের তাড়না অনুভব করেন, যার ফলে তাদের মনোজগতে বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। তারা ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা ও পুলিশিং থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় জনমুখী পুলিশিংয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ হন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন পুলিশ সদস্যদেরকে মানুষের আরো কাছে যেতে, তাদের প্রতি আরো দায়বদ্ধ হতে শিখিয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের আজকের জনমুখী পুলিশিংয়ের প্রত্যাশার পেছনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের অনন্য সুযোগ, অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোদীপ্ত ও অনন্য সাধারণ ভূমিকা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

দেশের অভ্যন্তরে পুলিশি সেবা প্রদানের ব্রত নিয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

৭১ নারীসহ রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ১৯৯ শান্তিরক্ষী

আপডেট টাইম : ০৭:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

বর্তমানে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সাউথ সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ১২৮ জন পুরুষ ও ৭১ জন নারীসহ ১৯৯ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার।

বুধবার (২৮ মে) সদর দপ্তরের এ আই জি মিডিয়া ইনামুল হক সাগর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। ইনামুল হক সাগর আরও জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৫। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হবে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের পদযাত্রা সূচিত হয় ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে। শুরু থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ পুলিশের ২১ হাজার ৮১৫ জন শান্তিরক্ষী ২৪টি দেশে ২৬টি মিশনে পেশাদারত্ব ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের ২৪ জন শান্তিরক্ষী। বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যগণ বিগত ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯২৭ জন নারী পুলিশ শান্তিরক্ষী বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সাথে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন।

১৯৮৯ সালের পূর্বে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ পুলিশের কাজ করার কোনো ধরনের সুযোগ ঘটেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালনের ফলে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দেশের পুলিশিং সম্পর্কে জানার সুযোগ ঘটেছে, অনেক দেশের পুলিশের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে। এ ধরনের বহুমাত্রিকতায় পুলিশ সদস্যরা নিজেদের মধ্যে পরিবর্তনের এক ধরনের তাড়না অনুভব করেন, যার ফলে তাদের মনোজগতে বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। তারা ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা ও পুলিশিং থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় জনমুখী পুলিশিংয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ হন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন পুলিশ সদস্যদেরকে মানুষের আরো কাছে যেতে, তাদের প্রতি আরো দায়বদ্ধ হতে শিখিয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের আজকের জনমুখী পুলিশিংয়ের প্রত্যাশার পেছনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের অনন্য সুযোগ, অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোদীপ্ত ও অনন্য সাধারণ ভূমিকা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

দেশের অভ্যন্তরে পুলিশি সেবা প্রদানের ব্রত নিয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।