আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনারা। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার জানায়, দুটি ট্যাঙ্ক, একটি পাল্টা হামলা প্রতিরোধী বাহন ও ১২টি সাঁজোয়া যান নিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী হামলা শুরু করে। তাদের ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় এ মন্ত্রণালয়।
এর মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, কুরস্কে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার অসংখ্য সেনা হতাহত হয়েছে। শনিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, কুরস্কের শুধু মাখনোভকা গ্রামে রুশ সেনাবাহিনী এক ব্যাটালিয়নের বেশি উত্তর কোরীয় পদাতিক সেনা ও রুশ প্যারাট্রুপার হারিয়েছে। এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাননি তিনি।
সেনাবাহিনীর একটি ব্যাটালিয়নের আকার ভিন্ন হতে পারে। যদিও সাধারণত একটি ব্যাটালিয়নে কয়েকশ সেনা থাকে। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কুরস্কে এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার ১১ হাজার সেনা রয়েছে। তবে রাশিয়ার কুরস্কে নতুন অভিযানের মাধ্যমে ইউক্রেন কতটা লাভবান হবে বা এটি যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারবে কিনা, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। গত আগস্টে তারা হঠাৎ করে অঞ্চলটিতে হামলা চালায়। শুরুতে বেশ বড় অংশ দখল করলেও পরবর্তী সময়ে বেশির ভাগ জায়গা থেকে পিছু হটতে হয় তাদের। এ ছাড়া নতুন অভিযান ইউক্রেন কতটা এগিয়ে নিতে পারবে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, বর্তমানে সেনার অভাবে ভুগছে দেশটি।
রাশিয়া জানিয়েছে, রোববার তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের এটিএসিএমএস মিসাইল ছুড়েছে ইউক্রেন। দূরপাল্লার এ মিসাইলটি ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এ হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে মস্কো। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনের ছোড়া আটটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ৭২টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সমর্থ হয়েছি আমরা। পশ্চিমা প্রভুদের সহায়তায় কিয়েভ সরকারের চালানো এসব কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের হামলায় নিজেদের এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইজভেস্তিয়া। ইউক্রেনীয় শহর দোনেৎস্কে ড্রোন হামলায় তিনি প্রাণ হারান।
রিপোর্টার 


















