আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা: খাবারের লোভ দেখিয়ে ফাকা নির্জন বাড়িতে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে হাত-মুখ চেপে ধরে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্য মিলে ৫ বছরের ১ শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে ভূমিহীন পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।
ঐ সময় বাবা সোহেল রানা রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে ডাক্তাররা অপারগতা প্রকাশ করলে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, অবশেষে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হলো পিরোজপুর গ্রামের রেজাউল ইসলামের পুত্র নাঈম (১৪), তার ভাই সিয়াম (১২) এবং একই গ্রামের আবু সাঈদের পুত্র ভ্যানচালক শফিকুল ইসলাম(১৫)।
উক্ত ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুটির পিতা সোহেল রানা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের। শিশুর মামী মৌসুমী খাতুন ,ভাই আবির হোসেন, প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলী, তৌফিক ,আজমির , মহিউদ্দিন ,রামপ্রসাদ এ প্রতিনিধিকে জানান বৃহস্পতিবার বাড়ির পাশে রাস্তার উপর শিশুটি খেলা করছিল। ঐ সময় নাঈম ,সিয়াম এবং শফিকুল শিশুটির খাওয়ার দেওয়ার জন্য ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে খাটের উপর ফেলে ৩ জনে মিলে মুখ, হাত-পা চেপে ধরে জোরপূর্বক পালাক্রমে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।
ঐ সময় তার মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ফাঁকা বাসায় এ ঘটনা ঘটায়। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে বাবা সোহেল রানা ঐ ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গোঙানির শব্দে ঘরে ঢুকলে তাকে লাথি দিয়ে ৩ ধর্ষক পিছনে দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পার্শবর্তী মতির ইটভাঁটা থেকে জনগণ ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ব্যাপারে ধর্ষক নাঈম, সিয়ামের মা জেসমিন খাতুন এ প্রতিনিধিকে বলেন আমি বাড়িতে ছিলাম না।
এখানে কি হয়েছে আমি বলতে পারিনা এসে শুনি আমার ছেলেকে ধরে পুলিশে দিয়েছে। কালিগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান ধর্ষণ কাণ্ডের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শুক্রবার দুপুরে। তিনি বলেন অপরাধিরা আইনে সাজা পাবে এবং তাদের আটক করা হয়েছে, তাই কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না এবং শিশুদের সর্বসমক্ষেণে খেয়াল রাখা উচিত।
রিপোর্টার 

















