আজ ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

আশাশুনিতে পৈতৃক পুকুর ঘিরে বিরোধ: জোরপূর্বক বাঁশ দিয়ে ঘিরে নেওয়ার অভিযোগ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৮:২৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • ১৫৪ বার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বালিয়াখালী গ্রামে পৈতৃক পুকুর ঘিরে জমি বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুকুরটি জোরপূর্বক বাঁশ দিয়ে ঘিরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর অভিযোগ, তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ হিসেবে প্রায় ১৭ শতক আয়তনের একটি পুকুরে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাতলা, রুই, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। পুকুরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল পুকুরটি দখলের উদ্দেশ্যে বাঁশ দিয়ে ঘিরে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। তিনি আরও জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন জাল ও বাঁশ নিয়ে এসে পুকুরে মাছ ধরার চেষ্টা চালায় এবং বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ শুরু করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে প্রথম পক্ষকে অশ্লীল গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় স্বাক্ষীরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, উক্ত জমি ও পুকুর দীর্ঘদিন ধরে সিরাজুল ইসলামের পরিবার ভোগদখল করে আসছে এবং সেখানে নিয়মিত মাছ চাষ করছেন। সরেজমিনে তদন্তে তা নিশ্চিত হওয়ায় বিষয়টি আদালতে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রথম পক্ষের পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন। তাঁরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, পুকুরসংলগ্ন জমিটি নিয়ে পূর্বে একাধিক দেওয়ানি মামলাও হয়েছে, যেখানে আদালতের রায়ে উভয় পক্ষের নামেই জমি রেকর্ড থাকলেও বাস্তবিক দখলে রয়েছেন সিরাজুল ইসলামের পরিবার।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

আশাশুনিতে পৈতৃক পুকুর ঘিরে বিরোধ: জোরপূর্বক বাঁশ দিয়ে ঘিরে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৮:২৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বালিয়াখালী গ্রামে পৈতৃক পুকুর ঘিরে জমি বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুকুরটি জোরপূর্বক বাঁশ দিয়ে ঘিরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর অভিযোগ, তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ হিসেবে প্রায় ১৭ শতক আয়তনের একটি পুকুরে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাতলা, রুই, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। পুকুরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল পুকুরটি দখলের উদ্দেশ্যে বাঁশ দিয়ে ঘিরে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। তিনি আরও জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন জাল ও বাঁশ নিয়ে এসে পুকুরে মাছ ধরার চেষ্টা চালায় এবং বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ শুরু করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে প্রথম পক্ষকে অশ্লীল গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় স্বাক্ষীরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, উক্ত জমি ও পুকুর দীর্ঘদিন ধরে সিরাজুল ইসলামের পরিবার ভোগদখল করে আসছে এবং সেখানে নিয়মিত মাছ চাষ করছেন। সরেজমিনে তদন্তে তা নিশ্চিত হওয়ায় বিষয়টি আদালতে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রথম পক্ষের পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন। তাঁরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, পুকুরসংলগ্ন জমিটি নিয়ে পূর্বে একাধিক দেওয়ানি মামলাও হয়েছে, যেখানে আদালতের রায়ে উভয় পক্ষের নামেই জমি রেকর্ড থাকলেও বাস্তবিক দখলে রয়েছেন সিরাজুল ইসলামের পরিবার।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।