আজ ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম ::
সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা, দরজায় ঝুলল আদালতের নোটিশ সাড়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ সাতক্ষীরায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা জাতীয়তাবাদী সাইবার দল সাতক্ষীরা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা লাবসা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিক  জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টা সাতক্ষীরায় আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের পরিচিতি সভা ও কমিটি ঘোষণা তালায় ঘরের সানসেট ধসে নারীর মৃত্যু সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়া সম্ভব: ড. ইউনূস

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু: হত্যা নাকি আত্মহত্যা নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবী গ্রামবাসীর

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৭:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৪৮৬ বার

মোঃ কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার লালদাছি গ্রামে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ঘের ব্যবসায়ী অনিমেষ সরকার (৩০) রহস্যজনকভাবে মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা অনিমেষের লাশ দেখতে পান বাড়ির পাশের একটি নিমগাছে। খবর পেয়ে আশাশুনি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরদিন (২৫ জানুয়ারি) থানায় জিডি (নং ৯০৫) রুজু করা হয় এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অনিমেষের মানিব্যাগ, প্যান্ট ও কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব জিনিস পাওয়া যায় প্রতিবেশী বাবলু মোল্লার বাড়ির ছাদে। পরে আটক হন বাবলু মোল্লা (৩৯)। আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে তিনি দাবি করেন, তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত নন। বরং মালেক মল্লিক (৬২), অহিদ মল্লিক (৪২) ও আলম মল্লা (৩২) মিলে অনিমেষকে হত্যা করেছেন।
বাবলুর ভাষ্য, মালেক মল্লিকের নির্দেশে অহিদ ও আলম অনিমেষকে ঘেরে যাওয়ার পথে ধরে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং অনিমেষের জিনিসপত্র তার বাড়ির ছাদে রেখে দেওয়া হয়, যেন তাকেই ফাঁসানো যায়।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনিমেষের গলায় ফাঁসের দাগ ছিল। শরীরে অন্য কোনো বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মৃত্যু হয়েছে ফাঁসিতে ঝুলে, যা অ্যান্টিমর্টেম। তবে এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত খুন। অন্যদিকে ময়নাতদন্ত বলছে আত্মহত্যার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, “ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে। জবানবন্দী, আলামত ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অনিমেষ সরকারের মৃত্যু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। আত্মহত্যা না হত্যা সত্যিটা উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় আছে অনিমেষের পরিবার ও পুরো গ্রাম। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা, দরজায় ঝুলল আদালতের নোটিশ

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু: হত্যা নাকি আত্মহত্যা নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবী গ্রামবাসীর

আপডেট টাইম : ০৭:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

মোঃ কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার লালদাছি গ্রামে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ঘের ব্যবসায়ী অনিমেষ সরকার (৩০) রহস্যজনকভাবে মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা অনিমেষের লাশ দেখতে পান বাড়ির পাশের একটি নিমগাছে। খবর পেয়ে আশাশুনি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরদিন (২৫ জানুয়ারি) থানায় জিডি (নং ৯০৫) রুজু করা হয় এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অনিমেষের মানিব্যাগ, প্যান্ট ও কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব জিনিস পাওয়া যায় প্রতিবেশী বাবলু মোল্লার বাড়ির ছাদে। পরে আটক হন বাবলু মোল্লা (৩৯)। আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে তিনি দাবি করেন, তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত নন। বরং মালেক মল্লিক (৬২), অহিদ মল্লিক (৪২) ও আলম মল্লা (৩২) মিলে অনিমেষকে হত্যা করেছেন।
বাবলুর ভাষ্য, মালেক মল্লিকের নির্দেশে অহিদ ও আলম অনিমেষকে ঘেরে যাওয়ার পথে ধরে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং অনিমেষের জিনিসপত্র তার বাড়ির ছাদে রেখে দেওয়া হয়, যেন তাকেই ফাঁসানো যায়।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনিমেষের গলায় ফাঁসের দাগ ছিল। শরীরে অন্য কোনো বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মৃত্যু হয়েছে ফাঁসিতে ঝুলে, যা অ্যান্টিমর্টেম। তবে এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত খুন। অন্যদিকে ময়নাতদন্ত বলছে আত্মহত্যার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, “ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে। জবানবন্দী, আলামত ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অনিমেষ সরকারের মৃত্যু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। আত্মহত্যা না হত্যা সত্যিটা উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় আছে অনিমেষের পরিবার ও পুরো গ্রাম। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।