আজ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

আদম পাচার কারি শামীম এর ক্ষপ্পড়ে সিরাজুল সহ একাধিক ব‍্যাক্তি ভিটেবাড়ি ছাড়া

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
  • ১৭৯ বার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: জীবন জীবিকার তাগিদে আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা লাভের আশায় ভিটে বাড়ী বিক্রি করে প্রবাসে গিয়েও ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি সাতক্ষীরার দেনগরের সিরাজুল ইসলাম নামে। আদম ব্যবসায়ীর আদম ব‍্যবসায়ী শামীম রেজার খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে দেশে ফিরে এসে ঠাই হয়নি বাড়িতে সিরাজুলের, থাকতে হয়েছে পালিয়ে । অবশেষে অন‍্যের জমিতে অস্থায়ী কোন ভাবে ছাপড়ার নীচে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন সৌদি ফেরত সিরাজুল। প্রতারনার শিকার সিরাজুল সাতক্ষীরা সদরের দেবনগর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।

অভিযোগে জানাযায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ব্রাম্মন তেতুলিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদ গাজীর পুত্র শামিম রেজা গাজী গত ২০২১ সালে দুরসম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্রে সিরাজুল ইসলামকে সৌদি আরব যাওয়ার পরামর্শ দেন। শামিম রেজা ও জামবুর পরামর্শনে কৌশলে বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করান সিরাজুল ইসলাম কে। সৌদি আরবে তার একটি নিজস্ব গাড়ি ব্যবসা রয়েছে।সেখানে তার কাজের ব্যবস্থা করবেন। মোটা অংকের মাসিক বেতনের চুক্তিতে সিরাজুল ইসলামের নিকট থেকে ব‍্যাংক এর মাধ্যমে দুই লক্ষ ও নগত দুই লক্ষ টাকা নিয়ে ভিসা দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন।

তিন মাসের মধ্যে সৌদি আর পাঠানোর কথা থাকলেও সিরাজুল কে বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘদিন ঘুরারাতে থাকে দালাল শামীম রেজা। এক পর্যায় সিরাজুল ধারদিনা ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋন নিয়ে উক্ত টাকা দিয়ে সৌদি আরব যায়। সেখানে গিয়ে শামীম রেজার কোন গাড়ির ব্যবসা খুজে পায়নি। এমনকি সিরাজুল ইসলাম সৌদি আরব যাওয়ার পর আদম পাচারকারী শামীম রেজা তার কোন খোঁজ খবর নেয়নি। দিনের পর দিন না খেয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয় সিরাজুল ইসলামকে। বাধ্য হয়ে সিরাজুল ইসলাম বাহিরে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিষয়টি অনেক চেষ্টা করে শামীম রেজাকে অবহিত করেন।

এরপর সিরাজুল ইসলাম এর সাথেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় শামীম রেজা। হটাৎ কিছু পর শামীম রেজা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং এক বছরের আকামা দেয়ার চুক্তি থাকলেও তিন মাসের একটি ভূয়া অনুমতি পত্র (আকামা)দেয়। সৌদি পুলিশ ভূয়া কাগজ এর দায়ে সিরাজুল ইসলামকে আটক করে হাজতে নিয়ে যায়। কিছু দিন জেল খাটার পর সৌদি পুলিশ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। সম্প্রতি সিরাজুল ইসলাম সর্বশান্ত হয়ে দেশে ফিরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

শুধু তাই নয় অর্থের অভাবে তার সন্তান এর লেখা পড়া বন্ধ হয়ে গেছে এবং এনজিও থেকে সুদে ঋন নেয়া টাকা পরিশোধ না করতে পারায় প্রতিনিয়ত পাওনাদার বাড়িতে এসে হুমকি ধামকি দেয়ার কারণে পালিয়ে জীবন যাপন করছে। বিষয়টি নিয়ে আদম ব্যবসায়ী শামীম রেজার বাবা আব্দুস সামাদ গাজীর কাছে টাকা ফেরত দিবে বলে আসশাস্ত করলেও বহু দিন ধরে হয়রানি করছে। এবিষয়ে সিরাজুল ইসলামের ভাই আবু সাঈদ এ প্রতিবেদক কে বলেন আমরা শামীম রেজার টাকা চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় আর বলে পারলে টাকা আদায় করে নিশ দেখি কেমন ক্ষমতা। তবে ওর বাবা আব্দুস সামাদ এর বাড়িতে যেয়ে টাকা চাওয়া হলে বলে আমার ছেলে শামীম রেজা বাড়িতে আসলে আপনার টাকা ফেরত দেব, কিন্তু দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও টাকা দিচ্ছে না।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

আদম পাচার কারি শামীম এর ক্ষপ্পড়ে সিরাজুল সহ একাধিক ব‍্যাক্তি ভিটেবাড়ি ছাড়া

আপডেট টাইম : ০৬:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: জীবন জীবিকার তাগিদে আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা লাভের আশায় ভিটে বাড়ী বিক্রি করে প্রবাসে গিয়েও ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি সাতক্ষীরার দেনগরের সিরাজুল ইসলাম নামে। আদম ব্যবসায়ীর আদম ব‍্যবসায়ী শামীম রেজার খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে দেশে ফিরে এসে ঠাই হয়নি বাড়িতে সিরাজুলের, থাকতে হয়েছে পালিয়ে । অবশেষে অন‍্যের জমিতে অস্থায়ী কোন ভাবে ছাপড়ার নীচে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন সৌদি ফেরত সিরাজুল। প্রতারনার শিকার সিরাজুল সাতক্ষীরা সদরের দেবনগর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।

অভিযোগে জানাযায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ব্রাম্মন তেতুলিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদ গাজীর পুত্র শামিম রেজা গাজী গত ২০২১ সালে দুরসম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্রে সিরাজুল ইসলামকে সৌদি আরব যাওয়ার পরামর্শ দেন। শামিম রেজা ও জামবুর পরামর্শনে কৌশলে বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করান সিরাজুল ইসলাম কে। সৌদি আরবে তার একটি নিজস্ব গাড়ি ব্যবসা রয়েছে।সেখানে তার কাজের ব্যবস্থা করবেন। মোটা অংকের মাসিক বেতনের চুক্তিতে সিরাজুল ইসলামের নিকট থেকে ব‍্যাংক এর মাধ্যমে দুই লক্ষ ও নগত দুই লক্ষ টাকা নিয়ে ভিসা দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন।

তিন মাসের মধ্যে সৌদি আর পাঠানোর কথা থাকলেও সিরাজুল কে বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘদিন ঘুরারাতে থাকে দালাল শামীম রেজা। এক পর্যায় সিরাজুল ধারদিনা ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋন নিয়ে উক্ত টাকা দিয়ে সৌদি আরব যায়। সেখানে গিয়ে শামীম রেজার কোন গাড়ির ব্যবসা খুজে পায়নি। এমনকি সিরাজুল ইসলাম সৌদি আরব যাওয়ার পর আদম পাচারকারী শামীম রেজা তার কোন খোঁজ খবর নেয়নি। দিনের পর দিন না খেয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয় সিরাজুল ইসলামকে। বাধ্য হয়ে সিরাজুল ইসলাম বাহিরে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিষয়টি অনেক চেষ্টা করে শামীম রেজাকে অবহিত করেন।

এরপর সিরাজুল ইসলাম এর সাথেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় শামীম রেজা। হটাৎ কিছু পর শামীম রেজা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং এক বছরের আকামা দেয়ার চুক্তি থাকলেও তিন মাসের একটি ভূয়া অনুমতি পত্র (আকামা)দেয়। সৌদি পুলিশ ভূয়া কাগজ এর দায়ে সিরাজুল ইসলামকে আটক করে হাজতে নিয়ে যায়। কিছু দিন জেল খাটার পর সৌদি পুলিশ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। সম্প্রতি সিরাজুল ইসলাম সর্বশান্ত হয়ে দেশে ফিরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

শুধু তাই নয় অর্থের অভাবে তার সন্তান এর লেখা পড়া বন্ধ হয়ে গেছে এবং এনজিও থেকে সুদে ঋন নেয়া টাকা পরিশোধ না করতে পারায় প্রতিনিয়ত পাওনাদার বাড়িতে এসে হুমকি ধামকি দেয়ার কারণে পালিয়ে জীবন যাপন করছে। বিষয়টি নিয়ে আদম ব্যবসায়ী শামীম রেজার বাবা আব্দুস সামাদ গাজীর কাছে টাকা ফেরত দিবে বলে আসশাস্ত করলেও বহু দিন ধরে হয়রানি করছে। এবিষয়ে সিরাজুল ইসলামের ভাই আবু সাঈদ এ প্রতিবেদক কে বলেন আমরা শামীম রেজার টাকা চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় আর বলে পারলে টাকা আদায় করে নিশ দেখি কেমন ক্ষমতা। তবে ওর বাবা আব্দুস সামাদ এর বাড়িতে যেয়ে টাকা চাওয়া হলে বলে আমার ছেলে শামীম রেজা বাড়িতে আসলে আপনার টাকা ফেরত দেব, কিন্তু দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও টাকা দিচ্ছে না।