আজ ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও গাজায় ইসরায়েলের অতর্কিত হামলা, নিহত ৪০

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • ১৯০ বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় অবশেষে টানা ১৫ মাস ধরে চলা নৃশংসতার পর যুদ্ধবিরতির কথা জানা গেছে। আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। যুদ্ধবিরতির সংবাদ আসার পর উল্লাসে নেমেছেন গাজাবাসী। তবে এর মধ্যেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও হামলা চালিয়েছে যাচ্ছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির পশ্চিমে রিমালে ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গাজাজুড়ে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে এসব হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ১৫ মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হামাস এবং ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

দীর্ঘ কয়েক মাস আলোচনার পর এই চুক্তিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল, যার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী ছিল কাতার। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে পৃথক বৈঠকের পর উভয় পক্ষ গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে”। যুদ্ধবিরতির খবর জানার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের অনেককে রাস্তায় উল্লাস করতে দেখা গেছে। বিবিসি জানিয়েছে, আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। প্রথম পর্যায়ে ছয় সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এই সময়ে হামাস ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে। প্রতিজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে ইসরায়েল বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েল ব্যাপক হামলা চালানো শুরু করে। এসব হামলায় গত ১৫ মাসে ৪৬ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও গাজায় ইসরায়েলের অতর্কিত হামলা, নিহত ৪০

আপডেট টাইম : ০৬:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় অবশেষে টানা ১৫ মাস ধরে চলা নৃশংসতার পর যুদ্ধবিরতির কথা জানা গেছে। আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। যুদ্ধবিরতির সংবাদ আসার পর উল্লাসে নেমেছেন গাজাবাসী। তবে এর মধ্যেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও হামলা চালিয়েছে যাচ্ছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির পশ্চিমে রিমালে ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে পাঁচ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গাজাজুড়ে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে এসব হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ১৫ মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হামাস এবং ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

দীর্ঘ কয়েক মাস আলোচনার পর এই চুক্তিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল, যার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী ছিল কাতার। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে পৃথক বৈঠকের পর উভয় পক্ষ গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে”। যুদ্ধবিরতির খবর জানার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের অনেককে রাস্তায় উল্লাস করতে দেখা গেছে। বিবিসি জানিয়েছে, আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। প্রথম পর্যায়ে ছয় সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এই সময়ে হামাস ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে। প্রতিজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে ইসরায়েল বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েল ব্যাপক হামলা চালানো শুরু করে। এসব হামলায় গত ১৫ মাসে ৪৬ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।