আজ ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম ::
সাড়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ সাতক্ষীরায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা জাতীয়তাবাদী সাইবার দল সাতক্ষীরা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা লাবসা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিক  জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টা সাতক্ষীরায় আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের পরিচিতি সভা ও কমিটি ঘোষণা তালায় ঘরের সানসেট ধসে নারীর মৃত্যু সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়া সম্ভব: ড. ইউনূস স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সোহান

সাতক্ষীরায় পানিফল চাষে স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ নভেম্বর ২০২৪
  • ২৫৪ বার

আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় পানিফল চাষে ফিরেছে সুদিন। এই মৌসুমি ফল, যা স্থানীয়ভাবেপানি সিঙ্গারা নামে পরিচিত, চাষ করে এলাকার দুই শতাধিক কৃষক কিছুটা হলেও পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছেন। জলাবদ্ধ পতিত জমিতে এখন পানিফলের গাছের শোভা ফুটে উঠেছে। প্রতিদিন ভোরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পানিফল বস্তায় ভরে যাত্রীবাহী বাস, ভ্যানগাড়ি, ইজিবাইকের মাধ্যমে জেলা সদর, যশোর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাকযোগে পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ চট্টগ্রামে।

এ ছাড়া কলারোয়া পৌরসদরের মুরারীকাটি থেকে যুগিবাড়ী পর্যন্ত যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে পানিফল বিক্রি করছে স্থানীয় কৃষকরা। কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভ্রাংশ শেখর দাস জানান, “পানিফল একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। চলতি বছর প্রায় ৩৮ হেক্টর পতিত জমিতে পানিফল চাষ হয়েছে। পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় এ ফলের চাহিদা বেশ। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় উপজেলায় এই ফলের চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রতি বছর বোরো ধান কাটার পর জলাবদ্ধ পতিত জমিতে এবং পানি জমে থাকা ডোবা ও খাল- বিলে এই ফলের লতা রোপণ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে গাছে ফল আসে, এবং চাষে সার-কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না।” পানিফল চাষি তৌহিদুল ইসলাম, ওসমান গনি, আবুল হোসেন, আব্দুল কাদের ও কবিরুল ইসলাম জানান, সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে ঋণ সহায়তা পেলে আরও প্রান্তিক কৃষক এই ফলের চাষে আগ্রহী হবেন। এতে তারা যেমন স্বাবলম্বী হতে পারবেন, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখাও সম্ভব হবে।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভ্রাংশ শেখর দাস আরও বলেন, “পানিফল চাষ বর্তমানে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমাদের কৃষি বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এর বিস্তার ঘটাতে। যেকোনো পতিত পুকুর, ডোবা কিংবা জলাশয়ে এটি চাষ করা সম্ভব এবং উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর পানিফল চাষের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাড়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

সাতক্ষীরায় পানিফল চাষে স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

আপডেট টাইম : ০৬:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ নভেম্বর ২০২৪

আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় পানিফল চাষে ফিরেছে সুদিন। এই মৌসুমি ফল, যা স্থানীয়ভাবেপানি সিঙ্গারা নামে পরিচিত, চাষ করে এলাকার দুই শতাধিক কৃষক কিছুটা হলেও পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছেন। জলাবদ্ধ পতিত জমিতে এখন পানিফলের গাছের শোভা ফুটে উঠেছে। প্রতিদিন ভোরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পানিফল বস্তায় ভরে যাত্রীবাহী বাস, ভ্যানগাড়ি, ইজিবাইকের মাধ্যমে জেলা সদর, যশোর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাকযোগে পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ চট্টগ্রামে।

এ ছাড়া কলারোয়া পৌরসদরের মুরারীকাটি থেকে যুগিবাড়ী পর্যন্ত যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে পানিফল বিক্রি করছে স্থানীয় কৃষকরা। কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভ্রাংশ শেখর দাস জানান, “পানিফল একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। চলতি বছর প্রায় ৩৮ হেক্টর পতিত জমিতে পানিফল চাষ হয়েছে। পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় এ ফলের চাহিদা বেশ। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় উপজেলায় এই ফলের চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রতি বছর বোরো ধান কাটার পর জলাবদ্ধ পতিত জমিতে এবং পানি জমে থাকা ডোবা ও খাল- বিলে এই ফলের লতা রোপণ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে গাছে ফল আসে, এবং চাষে সার-কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না।” পানিফল চাষি তৌহিদুল ইসলাম, ওসমান গনি, আবুল হোসেন, আব্দুল কাদের ও কবিরুল ইসলাম জানান, সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে ঋণ সহায়তা পেলে আরও প্রান্তিক কৃষক এই ফলের চাষে আগ্রহী হবেন। এতে তারা যেমন স্বাবলম্বী হতে পারবেন, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখাও সম্ভব হবে।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভ্রাংশ শেখর দাস আরও বলেন, “পানিফল চাষ বর্তমানে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমাদের কৃষি বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এর বিস্তার ঘটাতে। যেকোনো পতিত পুকুর, ডোবা কিংবা জলাশয়ে এটি চাষ করা সম্ভব এবং উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর পানিফল চাষের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।