সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সাস্থ্য উন্নয়ন কমিটি চলতি মাসের ২৬ তারিখ অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার জন্য শহরের খুলনার রোড মোড় মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করার পর টনক নড়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। সোমবার সাজ সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আভিযানিক দল নিয়ে শহর ও শহরের আশপাশে অভিযান চালিয়ে ৩টি ক্লিনিক ও ৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাগজপত্র পর্যালোচনাসহ বাহ্যিক পরিবেশ বিবেচনাপূর্বক চলমান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এসময় অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ডা: মো: আব্দুস সালাম। টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: ফরহাদ জামিল ও প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ডা: মো: দেলোয়ার হোসেন।
আভিযানিক দল প্রথমেই যান শহরের সদর হাসপাতাল সংলগ্ন ‘স্বদেশ ক্লিনিকে’। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেলেও সেবিকা না পাওয়া ও পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকায় ক্লিনিক মালিককে তার অপরেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। একই সময়ে স্বদেশ ক্লিনিকের নীচ তলায় অবস্থিত ‘নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিককে চলমান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। এর পাশেরই ‘হরমন ডিজিটাল ল্যাবটি’ সি ক্যাটাগরির অনুমোদন নিয়ে বি ক্যাটাগরিতে পরিচালনা করায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সেটিও বন্ধ ঘোষণা করেন।
এসব প্রতিষ্ঠানের বিপরিত পাশে এসপি বাংলোর পেছনে পুরাতন প্রতিষ্ঠান ‘নাহার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। এই প্রতিষ্ঠানটি চলমান অবস্থায় অপরিস্কার ও পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে সেটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। একই স্থানে ‘সিটি হসপিটাল এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এ প্রবেশ করেন। এখানে প্রতিষ্ঠানটি খোলা থাকলেও কোন চিকিৎসক, নার্স বা কোন কর্মচারি কাউকে পাওয়া যাইনি। তবে প্রতিষ্ঠানটি নতুনভাবে প্রস্তুত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযানের সময় কাউকে না পেয়ে সেটিরও কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরপর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আভিযানিক দল শহর ছেড়ে ঝাউডাঙ্গা বাজারে যান। সেখানে ‘পাইলস এ্যান্ড সার্জিক্যাল ক্লিনিকে অভিযান চালান। আভিযানিক দলের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ক্লিনিকটি অত্যন্ত গোছালো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং নিজস্ব ভবন। কিন্ত অভিযানের সময় সকল সেবিকার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সেখানে একজন চিকিৎসক কম থাকায় সেটিরও কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
আকর্ষিক এই অভিযান নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ডা: মো: আব্দুস সালাম রাতে গণমাধ্যমকে জানান, এটি আসলে অভিযান বলা যাবে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন। আমরা সেই আবেদন অনুযায়ী আকর্ষিক তদারকি এবং পর্যালোচনা করি। কিন্তু তদারকিতে যেয়ে দেখা গেছে যেসব বিষয় থাকার প্রয়োজন তা নাই, আবার যা থাকার কথা নয় তা আছে। এসব এলোমেলো পরিস্থিতি দেখে তাৎক্ষণিক উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সাথে যে সব প্রতিষ্ঠানে যে যে সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে তা মালিক পক্ষ সমাধানপূর্বক জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করার পর পুনরায় দেখে পরিচালনার বিষয়টি ভাবা হবে।
এসময় তিনি আরো বলেন, আগামীকাল অর্থাৎ আজ অফিসে একটি মিটিং আছে। এরপর এখন থেকে যে কোন দিন, যে কোন সময় এমন আকর্ষিক ভিজিট করে সামগ্রিক বিষয়ে বিবেচনাপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা। অপর এক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাটকেলঘাটার লোকনাথ নার্সিং হোমে সম্প্রতি দুইজন রোগি মৃত্যুর ঘটনায় তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পৃথক দুটি তদন্তে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। ফলে প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। এটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাপূর্বক আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়কে সোমবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, এজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের যেকোন অনিয়ম রুখতে কঠোর ভুমিকা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টার 














