প্রতি বছর দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, বরং সমগ্র বাঙালির একটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। এবারের দুর্গাপূজা তিথির বিচারে ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। একই দিনে নবমী ও দশমীর পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি একধরনের বিষাদের ছায়া ছিল স্পষ্ট। দেবী দুর্গার আগমন যেমন বাঙালির মনকে উৎসবের আনন্দে ভাসায়, তেমনি তার বিদায় আনে শূন্যতা।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে নবমী পূজা ও দশমীর বিহিত পূজা একসঙ্গে উদযাপন করা হয়েছে। যদিও বিসর্জনের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ রবিবার সম্পন্ন হবে, কিন্তু দেবীকে ভক্তরা ইতোমধ্যেই মানসিকভাবে বিদায় জানিয়েছেন। দেবী দুর্গার কৈলাসে ফিরে যাওয়ার এই প্রথাগত আচার প্রতিবারই একটি বিশেষ রূপ নিয়ে আসে, যেখানে বিদায়ের আচারগুলো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রতিমা বিসর্জনের পর্ব, সিঁদুর খেলা, শোভাযাত্রা, মিষ্টি বিতরণসহ প্রতিটি আচারই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ বছর এই আচারগুলোর সুষ্ঠু এবং নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রশংসার যোগ্য।
দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি এক গভীর সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। দেবীর বিদায়ের মধ্য দিয়ে নতুন বছরের অপেক্ষা শুরু হয়, যখন আবার তিনি ফিরে আসবেন মর্ত্যে। আমরা আশা করি, এই বিদায় সবসময়ই শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনবে আমাদের সমাজে।
এবারের দুর্গাপূজার সমাপ্তি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ঐতিহ্যের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা ও সেই ঐতিহ্যের সযত্ন রক্ষা। নতুন বছরে আমরা যেন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আরও ভালোভাবে এই উৎসব উদযাপন করতে পারি—এই প্রার্থনা রইল।
রিপোর্টার 













