বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃশ্যপটে প্রকৃত বন্ধু খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এরই মধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে, বিশেষত সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং বর্বর হত্যাকান্ডের কারণে। ফেলানি খাতুন এবং স্বর্ণা দাশের হত্যাকান্ডের মাধ্যমে এই সম্পর্কের গূঢ় সমস্যাগুলি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর দেওয়া প্রয়োজন। কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালে ফেলানি খাতুনের হত্যাকান্ডের ঘটনা ছিল একটি হৃদয়বিদারক পরিণতি, যেখানে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর লাশ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। ১৩ বছর পর মৌলভীবাজারে ১৪ বছর বয়সী স্বর্ণা দাশের হত্যাকান্ড একই ধরনের বর্বরতার পুনরাবৃত্তি। এই ধরনের হত্যাকান্ডগুলির বিচারের দাবি একান্তভাবে বাস্তবায়নযোগ্য হতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফোরামের সমাবেশে বক্তারা বিএসএফের হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেছেন। নুসরাত তাবাসসুমের বক্তব্য, “ফেলানি থেকে স্বর্ণা দাশ, প্রতিটি হত্যার বিচার চাই,” এ বিষয়টি আমাদের দেশের সীমান্তে মানবাধিকারের প্রতি ভারতের মনোভাবের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটায়। তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্তরালে একটি অদৃশ্য বাধা তুলে ধরেছেন এবং প্রশ্ন করেছেন, বাংলাদেশ কি ভারতের কলোনি হয়ে গিয়েছে?
সীমান্ত হত্যাকান্ডের পাশাপাশি, বাংলাদেশ ভারতের পানি বণ্টনের সমস্যাতেও অসন্তুষ্ট। কূটনৈতিক আলোচনার পরও আন্তর্জাতিক নদীগুলোর বাঁধের কারণে বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলে পানির অভাব একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়টিতে ভারত কার্যকরভাবে পদক্ষেপ না নেওয়া একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঠিক প্রতিচ্ছবি নয়।
বাংলাদেশে সীমান্ত হত্যাকান্ড ও পানি সংকটের সমস্যা সমাধানে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতকে তার কর্তব্য পালনে সক্রিয় হতে হবে। বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করার দায়িত্ব ভারতের, এবং এই দায়িত্ব পালনে ভারত সফল হলে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এই অবস্থায়, আমাদের উচিত কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যাগুলির ন্যায্য সমাধান বের করা, আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়া, এবং ভারতকে তার বন্ধুত্বপূর্ণ দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। তবেই আমরা সত্যিকার অর্থে এক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হব।
আব্দুর রহমান 













