আজ ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

“চিকিৎসার আড়ালে প্রবাসীর স্ত্রী নির্যাতিত: শিক্ষক অভিযুক্ত”

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১০:২১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ২১৯ বার

আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা: চিকিৎসার নামে সৌদী প্রবাসীর স্ত্রীকে অচেতন করে শারিরীক সম্পর্কের প্রমান মিলেছে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং হোমিও চিকিৎসক রাজিবুলের বিরুদ্ধে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২১ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে রাজিবুলকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সরোয়ার হোসেন।
জানা গেছে, পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসাপাড়ার মামুন দীর্ঘদিন ধরে সৌদী আরবে চাকরি করতেন। ছুটিতে বাড়ি এসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের অনেকদিন অতিবাহিত হলেও কোন সন্তান না আসায় স্থানীয় কথিত হোমিও চিকিৎসক আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক রাজিবুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা করাতে পাঠান স্ত্রীকে। ছুটি শেষ হলে তিনি পুনরায় সৌদী আরবে চলে যান। এ সুযোগে কৌশলে ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে ফাঁদে ফেলে তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রাজিবুল। তাদের অবৈধ সম্পর্কে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে ঔষধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্টও করে রাজিবুল। একপর্যায়ে প্রবাসীর পাঠানো টাকাও হাতিয়ে নেয় রাজিবুল ইসলাম। গত ২মার্চ প্রবাসী বাড়িতে ফিরে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি অবগত হন। এমনকি একত্রে দুজনকে ধরেও ফেলেন তিনি। সে সময় রাজিবুল ওই নারীকে বিয়ের শর্তে মুক্তি পেলেও পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী নারীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই নারীর সন্তান না হওয়ায় হোমিও চিকিৎসক রাজিবুলের কাছে চিকিৎসা করাতে যান তিনি।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একদিন একটি ঔষধ খেতে দেন রাজিবুল। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাজিবুল ওই নারীকে তার চেম্বারের পিছনের একটি কক্ষে নিয়ে শারিরীক সম্পর্ক করেন এবং ওই নারীর আপত্তিকর ভিডিয়ো ধারন করেন রাজিবুল। পরে ওই ভিডিয়ো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দিনেপর দিন তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করেন রাজিবুল। তদন্ত কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে রাজিবুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রমান পান। তবে ওই রাজিবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমান পেলেও তাকে বরখাস্ত না করায় ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীসহ আলিয়া মাদ্রাসার অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলিয়া মাদ্রাসার একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলছেন, আলিয়া মাদ্রাসার সুনাম রক্ষা করতে ওই শিক্ষককে দ্রুত চাকরিচ্যুতসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব পড়বে। যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নারীদের জিম্মি করে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে তার কাছে কোন ভাবেই মেয়েদের পড়ানো নিরাপদ নয়। তবে অভিযুক্ত রাজিবুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একজন রোগীর সাথে চিকিৎসকের যে সম্পর্ক থাকে, আমার সাথে ওই নারীর সেই সম্পর্ক রয়েছে। এর বাইরে কোন সম্পর্ক নেই। তবে তার ভিডিয়ো ডকুমেন্ট এবং অডিও সংরক্ষিত আছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন এটি এডিটিং করা।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি জেলা প্রশাসক মহোদয়। পূর্বের জেলা প্রশাসক মহোদয় বদলী হয়ে নতুন জেলা প্রশাসক এসেছেন। তার সাথে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্য কলামে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সরোয়ার হোসেন উল্লেখ করেছেনÑজনাব মামুনের স্ত্রী সরল বিশ্বাসে চিকিৎসার জন্য শিক্ষক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক জনাব রাজিবুল আলমের শরনাপন্ন হলেও জনাব রাজিবুল আলম তার হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশে জনাব মামুনের স্ত্রীকে ফাঁদে ফেলে তার সাথে পরকীয়া তথা অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। অভিযোগকারী জনাব মামুন কর্তৃক সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক জনাব রাজিবুল আলমের বিরুদ্ধে জনাব মামুনের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক আচরণ, পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগটি সত্য মর্মে প্রতীয়মান।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

“চিকিৎসার আড়ালে প্রবাসীর স্ত্রী নির্যাতিত: শিক্ষক অভিযুক্ত”

আপডেট টাইম : ১০:২১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা: চিকিৎসার নামে সৌদী প্রবাসীর স্ত্রীকে অচেতন করে শারিরীক সম্পর্কের প্রমান মিলেছে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং হোমিও চিকিৎসক রাজিবুলের বিরুদ্ধে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২১ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে রাজিবুলকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সরোয়ার হোসেন।
জানা গেছে, পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসাপাড়ার মামুন দীর্ঘদিন ধরে সৌদী আরবে চাকরি করতেন। ছুটিতে বাড়ি এসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের অনেকদিন অতিবাহিত হলেও কোন সন্তান না আসায় স্থানীয় কথিত হোমিও চিকিৎসক আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক রাজিবুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা করাতে পাঠান স্ত্রীকে। ছুটি শেষ হলে তিনি পুনরায় সৌদী আরবে চলে যান। এ সুযোগে কৌশলে ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে ফাঁদে ফেলে তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রাজিবুল। তাদের অবৈধ সম্পর্কে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে ঔষধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্টও করে রাজিবুল। একপর্যায়ে প্রবাসীর পাঠানো টাকাও হাতিয়ে নেয় রাজিবুল ইসলাম। গত ২মার্চ প্রবাসী বাড়িতে ফিরে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি অবগত হন। এমনকি একত্রে দুজনকে ধরেও ফেলেন তিনি। সে সময় রাজিবুল ওই নারীকে বিয়ের শর্তে মুক্তি পেলেও পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী নারীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই নারীর সন্তান না হওয়ায় হোমিও চিকিৎসক রাজিবুলের কাছে চিকিৎসা করাতে যান তিনি।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একদিন একটি ঔষধ খেতে দেন রাজিবুল। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাজিবুল ওই নারীকে তার চেম্বারের পিছনের একটি কক্ষে নিয়ে শারিরীক সম্পর্ক করেন এবং ওই নারীর আপত্তিকর ভিডিয়ো ধারন করেন রাজিবুল। পরে ওই ভিডিয়ো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দিনেপর দিন তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করেন রাজিবুল। তদন্ত কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে রাজিবুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রমান পান। তবে ওই রাজিবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমান পেলেও তাকে বরখাস্ত না করায় ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীসহ আলিয়া মাদ্রাসার অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলিয়া মাদ্রাসার একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলছেন, আলিয়া মাদ্রাসার সুনাম রক্ষা করতে ওই শিক্ষককে দ্রুত চাকরিচ্যুতসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব পড়বে। যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নারীদের জিম্মি করে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে তার কাছে কোন ভাবেই মেয়েদের পড়ানো নিরাপদ নয়। তবে অভিযুক্ত রাজিবুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একজন রোগীর সাথে চিকিৎসকের যে সম্পর্ক থাকে, আমার সাথে ওই নারীর সেই সম্পর্ক রয়েছে। এর বাইরে কোন সম্পর্ক নেই। তবে তার ভিডিয়ো ডকুমেন্ট এবং অডিও সংরক্ষিত আছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন এটি এডিটিং করা।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি জেলা প্রশাসক মহোদয়। পূর্বের জেলা প্রশাসক মহোদয় বদলী হয়ে নতুন জেলা প্রশাসক এসেছেন। তার সাথে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্য কলামে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সরোয়ার হোসেন উল্লেখ করেছেনÑজনাব মামুনের স্ত্রী সরল বিশ্বাসে চিকিৎসার জন্য শিক্ষক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক জনাব রাজিবুল আলমের শরনাপন্ন হলেও জনাব রাজিবুল আলম তার হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশে জনাব মামুনের স্ত্রীকে ফাঁদে ফেলে তার সাথে পরকীয়া তথা অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। অভিযোগকারী জনাব মামুন কর্তৃক সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক জনাব রাজিবুল আলমের বিরুদ্ধে জনাব মামুনের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক আচরণ, পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগটি সত্য মর্মে প্রতীয়মান।