আজ ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

সাতক্ষীরায় শিক্ষকদের মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক এর নিকট  স্মারকলিপি প্রদান

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১৯৬ বার
আবু সাঈদ: বৈষম্য দূরীকরণে বেসরকারি মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ,  জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ রাখা ও শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করা  হয়েছে। উপজেলার  বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোট ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মঙ্গলবার  সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যলয় প্রাঙ্গণে  মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো:মমিনুল ইসলাম’ সভাপতিত্বে ও মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জালাল উদ্দিন’র সঞ্চালনায়  প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি মো. আমানুল্লাহ আমান। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  মো. আব্দুল্লাহ,মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন,জেলা কল্যাণ সমিতির সচিব  মো. মিজানুর রহমান,জেলা শিক্ষক সমিতির কোষাধক্ষ মো. নজিবুল ইসলাম,  মাওলানা মোহতসিন বিল্লাহ, আলিপুর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান  শিক্ষক  মোঃ আব্দুল লতিফ, শিয়ালডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল লতিফসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষকবৃন্দ বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা জাতীয়করণ এবং জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপজেলা জেলা অঞ্চল ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখায় পদায়ন স্থগিত রেখে শিক্ষা প্রশাসনের কাজে দক্ষ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের চলতি দায়িত্ব প্রদান ও একটি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে।  একটি উন্নত আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সুষম, সুস্থ-পরিচ্ছন্ন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সার্বজনীন শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষা জাতীয়করণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে মাধ্যমিক শিক্ষাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে। জুলাই আগস্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা বৈষম্য বিরোধী একটি সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছে, তা এখন বাস্তবায়ন করতে হবে। বক্তারা চারদফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবসমূহ হলো- মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ৯৭% বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরী। একই শিক্ষাগত যোগ্যতা, একই পাঠ্য-পুস্তক ও একই বোর্ডের আওতায় পরীক্ষা হলেও সরকারি ও বেসরকারীর মধ্যে আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদার বৈষম্য শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রধান অন্তরায়। তাই শিক্ষার সকল স্টকহোল্ডারদের প্রাণের দাবি  মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ। এটি নিশ্চিত করা হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে-যা আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য অভ্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা বিভাগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক। শিক্ষকেরা অ্যাকাডেমিক কাজে দক্ষ, পেডাগোজি কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অন্যদিকে ৩১ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উপজেলা মাধ্যমক শিক্ষা অফিসারদের প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। শিক্ষকতা ও প্রশাসন ভিন্ন চরিত্রের, তাদের কাজের ধরণ ও চর্চা ভিন্ন। যদি শিক্ষকরা প্রশাসনে অনভিজ্ঞ হন, তবে তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তাই, উভয় পেশার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও পরস্পর পরিপূরক হিসেবে কাজ করা উচিত, যাতে দেশের শিক্ষা উন্নত হতে পারে।
উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখায় ৩১ বছরের শিক্ষা। স্কুল, মাদ্রাসা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বৈষম্য প্রকট। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে একটি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। কমিশন শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো তৈরি করবে, যা তাদের মর্যাদা ও প্রেরণা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, উপজেলা থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসন কিভাবে চলবে, তা স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রম কিভাবে সমন্বয় হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করবে। মানববন্ধন পরবর্তী  শিক্ষকরা সাতক্ষীরা  জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিব বরাবর পৃথক দুটি স্মারকলিপি পেশ করেন। উল্লেখ্য ঐ মানব বন্ধের নামে ওলামা লীগসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত কিছু শিক্ষক ঐ মানব বন্ধে যুক্ত হয় যাহা বর্তমান অন্তরবর্তি সরকারের বিরুদ্ধে সড়যন্ত্রমূলক বলে মন্তব্য করেন অনেকেই।
ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় শিক্ষকদের মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক এর নিকট  স্মারকলিপি প্রদান

আপডেট টাইম : ০৯:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
আবু সাঈদ: বৈষম্য দূরীকরণে বেসরকারি মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ,  জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ রাখা ও শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করা  হয়েছে। উপজেলার  বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোট ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মঙ্গলবার  সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যলয় প্রাঙ্গণে  মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো:মমিনুল ইসলাম’ সভাপতিত্বে ও মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জালাল উদ্দিন’র সঞ্চালনায়  প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি মো. আমানুল্লাহ আমান। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  মো. আব্দুল্লাহ,মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন,জেলা কল্যাণ সমিতির সচিব  মো. মিজানুর রহমান,জেলা শিক্ষক সমিতির কোষাধক্ষ মো. নজিবুল ইসলাম,  মাওলানা মোহতসিন বিল্লাহ, আলিপুর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান  শিক্ষক  মোঃ আব্দুল লতিফ, শিয়ালডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল লতিফসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষকবৃন্দ বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা জাতীয়করণ এবং জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপজেলা জেলা অঞ্চল ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখায় পদায়ন স্থগিত রেখে শিক্ষা প্রশাসনের কাজে দক্ষ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের চলতি দায়িত্ব প্রদান ও একটি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে।  একটি উন্নত আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সুষম, সুস্থ-পরিচ্ছন্ন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সার্বজনীন শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষা জাতীয়করণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে মাধ্যমিক শিক্ষাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে। জুলাই আগস্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা বৈষম্য বিরোধী একটি সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছে, তা এখন বাস্তবায়ন করতে হবে। বক্তারা চারদফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবসমূহ হলো- মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ৯৭% বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরী। একই শিক্ষাগত যোগ্যতা, একই পাঠ্য-পুস্তক ও একই বোর্ডের আওতায় পরীক্ষা হলেও সরকারি ও বেসরকারীর মধ্যে আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদার বৈষম্য শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রধান অন্তরায়। তাই শিক্ষার সকল স্টকহোল্ডারদের প্রাণের দাবি  মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ। এটি নিশ্চিত করা হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে-যা আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য অভ্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা বিভাগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক। শিক্ষকেরা অ্যাকাডেমিক কাজে দক্ষ, পেডাগোজি কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অন্যদিকে ৩১ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উপজেলা মাধ্যমক শিক্ষা অফিসারদের প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। শিক্ষকতা ও প্রশাসন ভিন্ন চরিত্রের, তাদের কাজের ধরণ ও চর্চা ভিন্ন। যদি শিক্ষকরা প্রশাসনে অনভিজ্ঞ হন, তবে তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তাই, উভয় পেশার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও পরস্পর পরিপূরক হিসেবে কাজ করা উচিত, যাতে দেশের শিক্ষা উন্নত হতে পারে।
উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখায় ৩১ বছরের শিক্ষা। স্কুল, মাদ্রাসা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বৈষম্য প্রকট। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে একটি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। কমিশন শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো তৈরি করবে, যা তাদের মর্যাদা ও প্রেরণা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, উপজেলা থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসন কিভাবে চলবে, তা স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রম কিভাবে সমন্বয় হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করবে। মানববন্ধন পরবর্তী  শিক্ষকরা সাতক্ষীরা  জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিব বরাবর পৃথক দুটি স্মারকলিপি পেশ করেন। উল্লেখ্য ঐ মানব বন্ধের নামে ওলামা লীগসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত কিছু শিক্ষক ঐ মানব বন্ধে যুক্ত হয় যাহা বর্তমান অন্তরবর্তি সরকারের বিরুদ্ধে সড়যন্ত্রমূলক বলে মন্তব্য করেন অনেকেই।