নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৪টি অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমকে সামনে রেখে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এর আওতায় ২০৭ ধাপের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ রোডম্যাপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৪ ভাগে বিভক্ত একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। একটি কাজ অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সবগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।”
সংলাপ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ততা
রোডম্যাপে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে রাখা হয়েছে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নারী নেতৃত্ব ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ
নির্বাচনের আগে তিন ধাপে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
-
৩১ আগস্ট: সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা
-
১ নভেম্বর: চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ
-
৩০ নভেম্বর: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
যাদের বয়স ১৮ বছর হবে, তারাই নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
আইন-বিধি সংস্কার
ইসি জানিয়েছে, ৩১ আগস্টের মধ্যে বিভিন্ন আইন-বিধির সংস্কার সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন
-
ভোটার তালিকা আইন
-
ভোটকেন্দ্র নীতিমালা
-
দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা
-
নির্বাচন পরিচালনা (সংশোধন) আইন ২০২৫
-
নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১
-
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯
এগুলো ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমানা পুনঃনির্ধারণ ও দল নিবন্ধন
-
১৫ সেপ্টেম্বর: সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।
-
৩০ সেপ্টেম্বর: রাজনৈতিক দল নিবন্ধন চূড়ান্ত করা হবে।
-
একই তারিখের মধ্যে জিআইএস ম্যাপও প্রকাশ করা হবে।
পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা
-
দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ২২ অক্টোবর চূড়ান্ত করা হবে।
-
১৫ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে।
-
একই সময় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমতি প্রদানের কাজ শেষ করবে ইসি।
প্রশাসনিক ও লজিস্টিক প্রস্তুতি
-
১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে: নির্বাচনী ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, পোস্টার ও পরিচয়পত্র মুদ্রণ শেষ।
-
৩১ অক্টোবরের মধ্যে: মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন।
-
৩০ নভেম্বরের মধ্যে: নির্বাচনের জন্য জনবল ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন।
-
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে: নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহ ও বিতরণ শেষ।
-
৩০ নভেম্বরের মধ্যে: ব্যবহার উপযোগী স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রস্তুত।
-
২০২৬ সালের জানুয়ারি: প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রম সম্পন্ন।
আইনশৃঙ্খলা ও বাজেট
-
২৫ সেপ্টেম্বর: আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রথম সভা।
-
১৫ নভেম্বরের মধ্যে: নির্বাচনী বাজেট চূড়ান্ত।
-
১৬-২০ নভেম্বর: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ বৈঠক।
প্রযুক্তি ও প্রচার কার্যক্রম
-
৩১ অক্টোবরের মধ্যে: আইসিটি সংশ্লিষ্ট সব কাজ শেষ।
-
৩০ নভেম্বরের মধ্যে: সচেতনতামূলক প্রচারণা শেষ করবে ইসি।
-
ভোটকেন্দ্র পর্যায়ে ফলাফল প্রদর্শন, ইলেকট্রনিক প্রচার, ডিজিটাল মনিটর স্থাপন, বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফল প্রচারের ব্যবস্থাও রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত।
ভোটের সময়সূচি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি, তবে ভোটগ্রহণের প্রায় দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে।”
অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, রমজান শুরুর আগে ভোট সম্পন্ন করতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ১৭ বা ১৮ তারিখে রমজান শুরু হতে পারে। সে অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
উপসংহার
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, নির্বাচন কমিশন সময়সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায়। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া এ রোডম্যাপ কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
রিপোর্টার 
















