আজ ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

রিয়াদের আরও একটি বাসার খোঁজ, মিলল নগদ টাকা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • ২২৬ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির জালে নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে। এবার তার আরও একটি ভাড়া বাসার খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা জানান, রিয়াদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বেশ কিছু অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। নতুন উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থও এসব অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আব্দুল কালাম আজাদের গ্রিন রোডের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে রিয়াদ ও তার কয়েকজন সহযোগী তাকে হুমকি দেয়। তারা ‘মব’ তৈরির ভয় দেখিয়ে গলায় জুতার মালা পরানোর হুমকি দেয়। পরে আজাদের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকার চারটি চেক ও একটি জমির দলিল নেয় রিয়াদ। আজাদ নবম জাতীয় সংসদে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বুধবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, রিয়াদের ঢাকার নাখালপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চারটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এই চেকগুলো সাবেক এমপি আব্দুল কালাম আজাদের কাছ থেকেই নেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রিয়াদের সহযোগীদের কাছেও আড়াই কোটি টাকার চেক রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় রিয়াদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে পুলিশ।

চেকগুলো ‘নিট জোন প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা হয়েছে। তবে চেকের মধ্যে কারও নাম লেখা ছিল না—শুধু সই ও টাকার অঙ্ক ছিল। আগস্টে ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল চেকগুলো।

গত ২৬ জুলাই গুলশানে আওয়ামী লীগের আরেক সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে রিয়াদসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হয় এবং রিয়াদসহ চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে থাকা অন্য তিনজন হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম এবং সাদাব।

রিয়াদ আগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরে তিনি ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে একটি নতুন সংগঠন গঠনে যুক্ত হন, যা মূল সংগঠনের একটি ভিন্নধারার রূপ।

ডিএমপির ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “গুলশানের ঘটনায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা যে তথ্য দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই রিয়াদের বাসা থেকে চেক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভুক্তভোগীরা আগেভাগে পুলিশকে জানালে হয়তো এ ধরনের চাঁদাবাজি ঠেকানো যেত।”

তিনি আরও বলেন, “তদন্ত চলছে—চাঁদা কেন দেওয়া হয়েছিল, তাদের কোনো দুর্বলতা ছিল কিনা। অপরাধে কারও রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়, অপরাধই মুখ্য।”

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

রিয়াদের আরও একটি বাসার খোঁজ, মিলল নগদ টাকা

আপডেট টাইম : ০৬:৪২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির জালে নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে। এবার তার আরও একটি ভাড়া বাসার খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা জানান, রিয়াদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বেশ কিছু অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। নতুন উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থও এসব অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আব্দুল কালাম আজাদের গ্রিন রোডের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে রিয়াদ ও তার কয়েকজন সহযোগী তাকে হুমকি দেয়। তারা ‘মব’ তৈরির ভয় দেখিয়ে গলায় জুতার মালা পরানোর হুমকি দেয়। পরে আজাদের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকার চারটি চেক ও একটি জমির দলিল নেয় রিয়াদ। আজাদ নবম জাতীয় সংসদে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বুধবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, রিয়াদের ঢাকার নাখালপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চারটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এই চেকগুলো সাবেক এমপি আব্দুল কালাম আজাদের কাছ থেকেই নেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রিয়াদের সহযোগীদের কাছেও আড়াই কোটি টাকার চেক রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় রিয়াদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে পুলিশ।

চেকগুলো ‘নিট জোন প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা হয়েছে। তবে চেকের মধ্যে কারও নাম লেখা ছিল না—শুধু সই ও টাকার অঙ্ক ছিল। আগস্টে ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল চেকগুলো।

গত ২৬ জুলাই গুলশানে আওয়ামী লীগের আরেক সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে রিয়াদসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হয় এবং রিয়াদসহ চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে থাকা অন্য তিনজন হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম এবং সাদাব।

রিয়াদ আগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরে তিনি ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে একটি নতুন সংগঠন গঠনে যুক্ত হন, যা মূল সংগঠনের একটি ভিন্নধারার রূপ।

ডিএমপির ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “গুলশানের ঘটনায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা যে তথ্য দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই রিয়াদের বাসা থেকে চেক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভুক্তভোগীরা আগেভাগে পুলিশকে জানালে হয়তো এ ধরনের চাঁদাবাজি ঠেকানো যেত।”

তিনি আরও বলেন, “তদন্ত চলছে—চাঁদা কেন দেওয়া হয়েছিল, তাদের কোনো দুর্বলতা ছিল কিনা। অপরাধে কারও রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়, অপরাধই মুখ্য।”