আজ ০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম ::
সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা, দরজায় ঝুলল আদালতের নোটিশ সাড়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ সাতক্ষীরায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা জাতীয়তাবাদী সাইবার দল সাতক্ষীরা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা লাবসা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিক  জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টা সাতক্ষীরায় আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের পরিচিতি সভা ও কমিটি ঘোষণা তালায় ঘরের সানসেট ধসে নারীর মৃত্যু সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়া সম্ভব: ড. ইউনূস

স্বামী হত্যার দায় চাপানো হলো শ্বাশুড়ীর ওপর: পুত্রবধূর সংবাদ সম্মেলন

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০৬:২১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • ২৫৩ বার

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইকে হত্যা করে বৃদ্ধা চাচীর ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহতের স্ত্রী মোছা শান্তা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শান্তা খাতুন জানান, তার স্বামী তালা উপজেলার আঠারই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে শ্বাশুড়ীর (বৃদ্ধা চাচী) ঘাড়ে দায় চাপানো হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বামী হাবিবুর রহমান মাদক সেবন করে বাড়ি ফিরে তাকে মারধর করে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এই সুযোগে একই গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে ইমরান (২০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাবিবুর রহমানকে হত্যা করে। জ্ঞান ফিরে দেখেন, স্বামী মাটিতে পড়ে আছেন এবং শরীরে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে।

শান্তা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর শহীদুল ইসলাম তাকে ভয় দেখিয়ে একটি পূর্বপ্রস্তুত এজাহারে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। পরে জানতে পারেন, সেই এজাহারে বলা হয়েছে তার শ্বাশুড়ী নিজ সন্তানকে হত্যা করেছে এবং তিনি নিজেই তা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “সন্তান যতই খারাপ হোক, একজন মা তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে না। জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল শহীদুল, মাছুরা, জেসমিন গংদের সঙ্গে। এই বিরোধের জেরেই শহীদুলের ছেলে ইমরান আমার স্বামীকে হত্যা করে। এরপর তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে ফেলা হয় এবং লাশ দাফনের আগ পর্যন্ত ইমরান পলাতক ছিল।”

শান্তা খাতুন অভিযোগ করেন, “আমার স্বামী মারা গেলে চাচা শ্বশুরদের সম্পত্তি দখলের পথ সুগম হয়। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তাদের স্বার্থ জড়িত, সেটি আমরা বুঝে উঠতে দেরি করেছি।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলায় আটক বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে অব্যাহতি দিয়ে কারামুক্তির দাবি করেন।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা, দরজায় ঝুলল আদালতের নোটিশ

স্বামী হত্যার দায় চাপানো হলো শ্বাশুড়ীর ওপর: পুত্রবধূর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট টাইম : ০৬:২১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইকে হত্যা করে বৃদ্ধা চাচীর ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহতের স্ত্রী মোছা শান্তা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শান্তা খাতুন জানান, তার স্বামী তালা উপজেলার আঠারই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে শ্বাশুড়ীর (বৃদ্ধা চাচী) ঘাড়ে দায় চাপানো হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বামী হাবিবুর রহমান মাদক সেবন করে বাড়ি ফিরে তাকে মারধর করে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এই সুযোগে একই গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে ইমরান (২০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাবিবুর রহমানকে হত্যা করে। জ্ঞান ফিরে দেখেন, স্বামী মাটিতে পড়ে আছেন এবং শরীরে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে।

শান্তা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর শহীদুল ইসলাম তাকে ভয় দেখিয়ে একটি পূর্বপ্রস্তুত এজাহারে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। পরে জানতে পারেন, সেই এজাহারে বলা হয়েছে তার শ্বাশুড়ী নিজ সন্তানকে হত্যা করেছে এবং তিনি নিজেই তা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “সন্তান যতই খারাপ হোক, একজন মা তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে না। জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল শহীদুল, মাছুরা, জেসমিন গংদের সঙ্গে। এই বিরোধের জেরেই শহীদুলের ছেলে ইমরান আমার স্বামীকে হত্যা করে। এরপর তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে ফেলা হয় এবং লাশ দাফনের আগ পর্যন্ত ইমরান পলাতক ছিল।”

শান্তা খাতুন অভিযোগ করেন, “আমার স্বামী মারা গেলে চাচা শ্বশুরদের সম্পত্তি দখলের পথ সুগম হয়। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তাদের স্বার্থ জড়িত, সেটি আমরা বুঝে উঠতে দেরি করেছি।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলায় আটক বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে অব্যাহতি দিয়ে কারামুক্তির দাবি করেন।