সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা তালায় স্যানেটারি মিস্ত্রি থেকে ঠিকাদার হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে নিজের নাম লিখিয়ে মিজানুর রহমান রাতারাতি গেছেন কোটিপতি বনে। তারপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। জানা গেছে, মিজানুর রহমান অতীতে একজন সামান্য স্যানেটারি মিস্ত্রি ছিলেন। স্যানেটারি মিস্ত্রি থেকে তিনি পরবর্তীতে নাম লেখান ঠিকাদারে। দলীয় প্রভাব বিস্তার করে অবলীলায় উপজেলা এল,জি,ই,ডি প্রকৌশলী থেকে প্রায়শই রাস্তার কাজ বাগিয়ে নিতেন অভিযুক্ত মিজানুর রহমান।
অভিযোগ উঠেছে, আ.লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তালা উপজেলার তালা সদর ইউনিয়নের ছয় নম্বর ইউনিয়নের অন্তর্গত তিনটি গ্রামে তৎকালীন সময় সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করেছে বুদু মেম্বারের দুই ছেলে শাহিন ও মিজানুর রহমান। তাদের একটি সক্রিয় সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট জনগোষ্ঠী আছে। আর এই সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয় তালার মিজানুর রহমান। তাদের গ্রুপে আছে, তৈয়েবুর মোল্যা, আজিজুর সহ একাধিক ব্যক্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ , ইতিপূর্বে স্থানীয়দের বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও মামলার হুমকি ধামকি দিয়ে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে এই চক্রটি।
বিএনপি ও জামায়াতের নেতা কর্মীদের নিকট থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর মাধ্যমে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছে চক্রটি। এরই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিরিহ মানুষের হয়রানি করেন। তাদের মধ্যে একজনকে পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে জানতে পারে বাপ্পী শেখ জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত। মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করার ব্যাপারে জানতে পেরে বাপ্পী শেখ কে তাৎক্ষণিকভাবে দেয় পুলিশ। এর জের ধরে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর বাপ্পী শেখ ও তার পিতা মাহবুবুরকে শাহাপুর বাজারে বেধডড়ক মারপিট করে মিজান-শাহিনের নেতৃত্বে ।
ঐ সন্ত্রাসীরা আরো বলে যেখানে মাহবুবুর শেখ ও তাঁর পুত্র বাপ্পী শেখ কে পাওয়া যাবে সেই খানে ওর হাত পা ভেঙ্গে ফেলা হবে। এই ধরনের কথা বললে, ভয়ে মাহবুবুর শেখ ও তার একমাত্র পুত্র বাপ্পী শেখ তৎকালীন সময় গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। তালা উপজেলার তালা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড যুব সংহতির সিনিয়র সহ সভাপতি বাপ্পী জানায়, নির্বাচন পূর্ববর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শাহিনুর রহমান ও মিজানুর রহমান তাঁর বাবার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে আটক করায়।
ব্যাপক যাচাই বাছাই করার পর যুব সংহতির কর্মী পরিচয় পেয়ে আমাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে, শাহীন.মিজান, সজীব মোড়ল, আজিজ মোড়ল ওরফে হাজী ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে ও তার বাবার ওপর হামলা করে আহত করে। শুধু তারাই না ভায়ড়া শাহাপুরসহ আশেপাশের তিনটি গ্রামের পুরুষরা তৎকালীন সময় গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভিটে ছাড়া। এই চক্রটি শাহাপুর গ্রামের সিদ্দিক শেখ চা বিক্রেতা তার চায়ের দোকান সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়ে বন্ধ করে দেয়।
তালা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ এর সহযোগিতায় ৮ দিনপর দোকানটি দোকানটি খোলেন। এদিকে জমি দখল থেকে শুরু এমন কোন অপকর্ম নেই যা করেনি মিজান গ্রুপ। নিরীহ সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় নাম দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করা ছিলো মূলত ঐ গ্রুপের কাজ। বিভিন্ন অপরাধ আর অপকর্মে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট মিজানুর রহমান গোষ্ঠী। এদিকে ঠিকাদার হওয়ার সুবাদে আ.লীগের প্রভাব বিস্তার করে অবলীলায় এল,জি,ই,ডি থেকে কাজ হাতিয়ে নেয় মিজানুর রহমান।
অভিযোগ আছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তায় ঠিকাদারি কাজের মাধ্যমে প্রতিটি কাজে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ,লাখ টাকা। নিন্মমানের কাজ আর চাঁদাবাজি করে সহসাই গেছেন কোটিপতি বনে। এছাড়া নামে বেনামে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। এ বিষয় মিজানুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার আলাপের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয় অভিযুক্ত শাহিনুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিক বার আলাপের চেষ্টা কালে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রিপোর্টার 














