সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করে ভূক্তভোগি বাদী তানিয়া খাতুন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায়, পুলিশ প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করেও মিলছে না আইনী প্রতিকার। মামলা সূত্রে জানা যায় সাতক্ষীরা দেবহাটা থানার কালাবাড়িয়া, রামনাথপুর গ্রামের আলহাজ¦ রুহুল আমিনকে গত ইং ৫ই আগষ্ট বিকাল আনুঃ ৬টার দিকে দেবহাটার রামনাথপুর শরত বাবুর মৎস্য ঘেরের সামনে একাধিক হত্যা সহ ডজন খানিক মামলার আসামী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী আবু হেনা সাকিল এর নেতৃত্বে মামলায় উল্লেখিত ১৮জন ব্যক্তি সহ অজ্ঞাত ৮/১০ জন ব্যক্তি সহ রুহুল আমিনের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ধারলো দা, চাইনিজ কুড়াল, লাঠি সহ অবৈধ অস্ত্র নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।
এ বিষয়ে আলহাজ¦ রুহুল আমিনের স্ত্রী তানিয়া খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলী ৭ নং আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফআইএর নির্দেশ দেন। অদ্যবধি পর্যন্ত কোন আসামী আইনের আওতায় না আনায় আসামীরা বেপরোয়া হয়ে বাদী তানিয়াকে সরাসরি ও লোক মাধ্যমে খুন জখম সহ জীবন নাশের হুমকি, এমনকি মামলা তুলে না নিলে পরিবার নিচিহ্ন করে দেবে বলে অভিযোগ করেন বাদী। বাদী আরও বলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সন্ত্রাসী আবু হেনা সাকিলকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আমাকে।
এবিষয়ে মামলার বাদী তানিয়া খাতুন স্বামী হত্যার বিচার দাবী করে পুলিশের আইজিপি, পুলিশের খুলনা বিভাগীয় (ডিআইজি) সহ সাতক্ষীরা সেনা ক্যাম্প অধিনায়ক বরাবর ১৯ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ করার কারনে সন্ত্রাসী আবু হেনা সাকিল বাদীর মোবাইল ফোনে সম্প্রতি ফোন দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি সহ হত্যা করা হবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
তিনি আরও বলেন আপনি যদি মামলা না তুলে নেন আমি আপনাকে বড় ধরনের ক্ষতি করব এবং আমার যে ক্ষমতা আছে সেটা আপনি ভালো করে জানেন, মামলার ১নং আসামী রেজাউল, ৩নং আসামী ছফেদ আলী ও আনারুল ইসলাম প্রায় খুন জখমের হুমকি প্রদান করেন বাদীকে, বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার থেকে। শুধু তাই নয় বাদী তানিয়ার বাবার মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে সাকিল সহ ঐ মামলার ৮/১০ জন আসামী।
এবিষয়ে এ প্রতিবেদককে অত্র মামলার বাদী তানিয়া বলেন এত কিছু করার পরেও আইনী সহযোগীতা না পেয়ে আমার সন্তান সহ পরিবারের লোকজন নিয়ে ২মাস জাবত বাড়ি ছাড়া হয়ে আছি জীবন বাঁচানোর জন্য। সন্ত্রাসীরা এতই ভয়ংকর যে তারা আমার বাড়ির ব্যবহৃত সমস্ত প্রকার মালামাল সহ মৎস্য ঘেরের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে আমি স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে যাহাতে নিরাপত্তা পাই তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের নিকট আইনের সহায়তা চায়।
উক্ত মামলায় আসামী যথা- মোঃ রেজাউল, সিরাজুল, উভয় পিতা- আব্দুল কাদের সরদার, মোঃ ছফেদ আলী সরাদর, মোঃ রাশিদুল ইসলাম, মোঃ আবুল কালাম, মোঃ আনারুল ইসলাম, মোঃ আসাদুল ইসলাম, আবুল হোসেন, মোঃ রিয়াজুল কবির, শাহিন, শামিম, হোসাইন, আবু হেনা সাকিল, দেলয়ার, জামসেদ, মোঃ আক্তারুল ইসলাম, মোঃ মোকছেদুল আলম, আসাদুল যাহার মামলা নং জি.আর- ৭৬/২৪, থানার মামলা নং ৪, উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার সাব ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম এ প্রতিবেদনকে বলেন, আমি বাদীকে কিছু বলিনি এবং মামলা থেকে কোন আসামী বাদ দেওয়ায় কথাও বলিনি, আপনি ওসি সারের সাথে কথা বলেন বলে ফোন কেটে দেন।
তিনি আরও বলেন বিষয়টি উদ্ধতন কর্মকর্তারা দেখভাল করছে, উনাদের পরবর্তী আদেশ মোতাবেক আসামীদের ধরার জন্য যৌথ বাহিনী অভিযান চালাবো। এবিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম মূনীর গনমাধ্যমকে বলেন অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে, আর যদি মামলার আয়ু বাদীকে অসহযোগীতা করে সে বিষয়টিও দেখা হবে।
রিপোর্টার 

















