আবু সাঈদ: সাতক্ষীরার আগরদাড়ি গ্রামে এক মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার পর জামাই রাসেদুজ্জামান লিটন ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে স্ত্রী সাদিয়া খাতুন ও শ্বশুর জিয়াদ আলীর ওপর হামলা এবং বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, সাদিয়া খাতুন (২২) এর সাথে একই গ্রামের মজনুর ছেলে রাসেদুজ্জামান লিটনের দুই বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই লিটন স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করতেন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক দাবি করতেন। সাদিয়ার বাবা, যিনি খুবই গরিব, মেয়ের সুখের জন্য কয়েকবার জামাইকে লক্ষাধিক টাকা দেন। তবুও সাদিয়ার ওপর অত্যাচার কমেনি।
অবশেষে অত্যাচার সইতে না পেরে সাদিয়া কয়েক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সাদিয়া তখন গর্ভবতী ছিলেন এবং কিছুদিন আগে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মৃত সন্তান প্রসব করেন।
এ ঘটনার পর শুক্রবার রাতে রাসেদুজ্জামান লিটন, তার বাবা মজনু, মোস্তাক, তুহিনসহ আরও অনেকেই জিয়াদ আলীর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়। হামলার সময় পরিবারের সদস্যদের জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে জিয়াদ আলী গুরুতর আহত হন এবং তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে জিয়াদ আলী জানান, লিটন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এবং তার বাড়িতে গাঁজা চাষ করেন। পুলিশের হাতে একাধিকবার আটকও হয়েছেন। লিটনের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে, যার ফলে তিনি বর্তমানে মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সরেজমিন তদন্ত করেছে এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টার 











