শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী গ্রামের নুরুন্নাহার বেগম(৪৩) নামে এক নারী প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকায় জমি কিনতে যেয়ে পথে বসে গেছে। বিসমিল্লাহ সেরেস্তা নামীয় স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান জাল কাগজপত্র সরবরাহ করে ঔ নারীর অনুকুলে জমি রেজিষ্ট্রি করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দিনমজুর স্বামীর দীর্ঘদিনের উপার্জনের সাথে বড় পুত্রের ইট ভাটার পারিশ্রমিক ও পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রির টাকায় উক্ত জমি কিনেছিলেন তিনি। তবে দাতা পক্ষের সাথে দলিল লেখকদের কারসাজিতে সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় ঔ নারী এখন শিশু সন্তানকে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। কাশিমাড়ী গ্রামের নুরুন্নাহার একই এলাকার দিনমজুর শফিকুল গাজীর স্ত্রী।
জানা যায় গত ১৪-৩-২০২৩ তারিখে একই গ্রামের আরশাফ গাজীর ছেলে আব্দুল রাজ্জাক ওরফে (জাল রাজ্জাক) এর নিকট থেকে ৩০ শতক জমি (দলিল নম্বর ১৩৪৯)কেনেন নুরুন্নাহার। এসএম মাহবুবুর রসিদ(লাইসেন্স নং ৩৬/১৯৮৭) এর মালিকানাধীন শ্যামনগর বিসমিল্লাহ সেরেস্থা থেকে উক্ত দলিল সম্পন্ন হয়। সেখানে লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোঃ আমজাদ হোসেন (লাইসেন্স নম্বর ৫২/৭৮)। অভিযোগ উঠেছে উক্ত সেরেস্তার প্রধান মাহাবুবুর রশিদ ও আমজাদের সহযোগীতা নিয়ে দাতা আব্দুর রাজ্জাক জাল কাগজপত্রে ঐ জমি রেজিষ্ট্রি করেন। এসময় অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে রেজিষ্ট্রি সম্পন্নের কাজে সহায়তা করেন তৎকালীন সাব-রেজিস্টার মইনুল হক।
নুরুন্নাহারের ভাষ্য রেজিষ্ট্রি হওয়ার দিনে এস এম মাহবুবুর রশিদ, মোঃ আমজাদ হোসেনের উপস্থিতিতে আব্দুর রাজ্জাক ৪ লক্ষ্য ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এর আগে মাহাবুবুর রসিদ কাগজপত্র দেখে নিশ্চিয়তা দেয়ার পরপরই রাজ্জাককে চার লাখ টাকা দেয়া হয়। স্বামী সন্তানের গচ্ছিত সর্বস্ব শেষ করে জমি কিনে তিনি পথে বসেছেন। জাল কাগজপত্রের বিষয়টি জানাজানির পর এখন তিনি পরিবারের কাছে ফিররেত পারছেন না।
এদিকে ত্যথানুসন্ধানে জানা গেছে বর্তমান দলিল সম্পন্নের কাজে যে সকল কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে তার সবগুলো জাল । এমনকি রাজ্জাক যে দলিল দিয়ে জমি বিক্রি করেছেন সেই দলিল ১৭-৫-১৯৬৭ সালের হলেও বিক্রিত দলিলে সরবরাহকৃত জাতীয় পরিচয় পত্রে রাজ্জাকের জন্ম তারিখ ১০-০৮-১৯৬৭। যাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে রাজ্জাকের জম্মের তিন মাস আগে তার নামে ঐ জমির দলিল সম্পন্ন হয়।
হতদরিদ্র নুরুন্নাহার জানান জাল কাগজের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর শ্যামনগর তৎকালীন স্বাব রেজিষ্ট্রারের নিকট তিনি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বদলি হয়ে যাওয়ায় তার আবেদনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি। এঘটনার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করায় বিষয়টি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। নুরুন্নাহার আরও জানান প্রশাসনের দারস্থ হওয়ায় সেরেস্তার মালিক আব্দুর রসিদ ও আমজাদ তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এমনকি সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও দাবি প্রতারনার শিকার ঐ নারীর।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে ইতিপুর্বে বিসমিল্লাহ সেরেস্তা থেকে জাল কাগজের আশ্রয় নিয়ে একাধিক দলিল সম্পন্ন হয়েছে। আব্দুর রহমান নামের এক শিক্ষকসহ কাশিমাড়ীর হযরত আলী নামের এক ব্যক্তি উক্ত সেরেস্তা থেকে জাল কাগজে রেজিষ্ট্রির শিকার হয়ে নানান হয়রানীর শিকার হন। সেই সময়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষদের ম্যানেজ করে সে যাত্রায় নিজেদের রক্ষা করেছিলেন উক্ত সেরেস্তা মালিক ও সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক। অভিযেগের বিষয়ে মাহবুবুর রসিদ জানান তার সেরেস্তায় প্রতিদিন অষংখ্য দলিল হয়। যেকারনে ব্যস্ততার কারনে হয়তবা কিছু ভুল কাগজ ঢুকে গেছে। তিনি দাতা আব্দুর রাজ্জাককে বলেছেন নুরুন্নাহারের জমি বুজিয়ে দিতে।
রিপোর্টার 
















