আজ ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির পরিকল্পনা, যুবক আটক

  • রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ০২:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
  • ২০৮ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা শহরের নাজমুল সরণিস্থ দে ব্রাদার্স জুয়েলার্সে ডাকাতির পরিকল্পনার অভিযোগে এক কর্মচারীকে আটক করে পুলিশের সোপর্দ করেছে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে খান মার্কেটস্থ সমিতির কার্যালয় থেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

ডাকাতির পরিকল্পনা গ্রহণকারী কর্মচারীর নাম স্বপন কর (৩৮)। সে সাতক্ষীরা পৌর শহরের উত্তর কাঠিয়া কর্মকারপাড়া এলাকার কালিপদ কর এর ছেলে।

সাতক্ষীরা জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গৌর দত্ত জানান, স্বপন কর সাতক্ষীরা শহরের নাজমুল সরণীস্থ নিউ দে ব্রাদার্স জুয়েলার্সের একজন কর্মচারী। স্বপন কর ওই দোকানে ডাকাতি করার জন্য খুলনার ধর্মসভা এলাকার জয় নামে এক ব্যক্তির সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে। স্বপন মোবাইল ফোনে জয়কে জানায়, আমি বেশ কয়েকটি ভারী মালের (স্বর্ণের গহনা) ছবি পাঠাচ্ছি ওইগুলো নিতে হবে। ডাকাতি করার পর মালের অর্ধেক কিন্তু আমাকে ভাগ দিতে হবে।

সে আরো জানায়, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে চারটা থেকে সোয়া চারটা পর্যন্ত দোকানে আমি নিজে এবং একজন বয়স্ক লোক ছাড়া আর কেউ থাকেনা। এ সময় পিছনের দরজায় এসে নক করলে আমি দরজা খুলে দিব। তোরা মুখ বেঁধে ঘরে ঢুকে আমাদেরকে জিম্মি করে আগে থেকে দেয়া ছবির গহনাগুলো নিয়ে চলে যাবি। আমি রাস্তায় একজন লোক দাঁড় করিয়ে দেবো সেই লোকের কাছে মালগুলো দিয়ে দিবি। পরে আমি সব তোর সমান ভাগ দিয়ে দিব।

তিনি আরো বলেন, স্বপ্নের এই মোবাইলের কল রেকর্ডিং করে জয় খুলনা থেকে নিউ দে ব্রাদার্স জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী বলাই দে কে জানিয়ে দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত হওয়ার পর শনিবার সকালে দোকানে আসার পর কর্মচারী স্বপন কর কে আটক করে সমিতির অফিসে বসিয়ে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আটক স্বপন কর জানায়, বিভিন্ন কারণে তিনি প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ঋণী আছেন। পাওনাদাররা টাকার জন্য তার উপর ব্যাপকভাবে চাপ দিচ্ছিল। এসয় আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। উপায়ান্তর না পেয়ে আমি নিজের মালিকের ঘরে ডাকাতির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে খুলনার জয় কে প্রস্তাব দেই। জয়ের মাধ্যমে দোকান থেকে স্বর্ণের গহনা ডাকাতি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করে আমি এই দেনা পরিশোধ করবো বলে সিদ্ধান্ত নেই।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বর্ণের দোকানের ডাকাতির পরিকল্পনা গ্রহণের অভিযোগে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সুপার্দ করেছে স্বর্ণ ব্যবসায় সমিতি নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির পরিকল্পনা, যুবক আটক

আপডেট টাইম : ০২:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা শহরের নাজমুল সরণিস্থ দে ব্রাদার্স জুয়েলার্সে ডাকাতির পরিকল্পনার অভিযোগে এক কর্মচারীকে আটক করে পুলিশের সোপর্দ করেছে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে খান মার্কেটস্থ সমিতির কার্যালয় থেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

ডাকাতির পরিকল্পনা গ্রহণকারী কর্মচারীর নাম স্বপন কর (৩৮)। সে সাতক্ষীরা পৌর শহরের উত্তর কাঠিয়া কর্মকারপাড়া এলাকার কালিপদ কর এর ছেলে।

সাতক্ষীরা জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গৌর দত্ত জানান, স্বপন কর সাতক্ষীরা শহরের নাজমুল সরণীস্থ নিউ দে ব্রাদার্স জুয়েলার্সের একজন কর্মচারী। স্বপন কর ওই দোকানে ডাকাতি করার জন্য খুলনার ধর্মসভা এলাকার জয় নামে এক ব্যক্তির সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে। স্বপন মোবাইল ফোনে জয়কে জানায়, আমি বেশ কয়েকটি ভারী মালের (স্বর্ণের গহনা) ছবি পাঠাচ্ছি ওইগুলো নিতে হবে। ডাকাতি করার পর মালের অর্ধেক কিন্তু আমাকে ভাগ দিতে হবে।

সে আরো জানায়, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে চারটা থেকে সোয়া চারটা পর্যন্ত দোকানে আমি নিজে এবং একজন বয়স্ক লোক ছাড়া আর কেউ থাকেনা। এ সময় পিছনের দরজায় এসে নক করলে আমি দরজা খুলে দিব। তোরা মুখ বেঁধে ঘরে ঢুকে আমাদেরকে জিম্মি করে আগে থেকে দেয়া ছবির গহনাগুলো নিয়ে চলে যাবি। আমি রাস্তায় একজন লোক দাঁড় করিয়ে দেবো সেই লোকের কাছে মালগুলো দিয়ে দিবি। পরে আমি সব তোর সমান ভাগ দিয়ে দিব।

তিনি আরো বলেন, স্বপ্নের এই মোবাইলের কল রেকর্ডিং করে জয় খুলনা থেকে নিউ দে ব্রাদার্স জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী বলাই দে কে জানিয়ে দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত হওয়ার পর শনিবার সকালে দোকানে আসার পর কর্মচারী স্বপন কর কে আটক করে সমিতির অফিসে বসিয়ে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আটক স্বপন কর জানায়, বিভিন্ন কারণে তিনি প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ঋণী আছেন। পাওনাদাররা টাকার জন্য তার উপর ব্যাপকভাবে চাপ দিচ্ছিল। এসয় আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। উপায়ান্তর না পেয়ে আমি নিজের মালিকের ঘরে ডাকাতির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে খুলনার জয় কে প্রস্তাব দেই। জয়ের মাধ্যমে দোকান থেকে স্বর্ণের গহনা ডাকাতি করে নিয়ে বাইরে বিক্রি করে আমি এই দেনা পরিশোধ করবো বলে সিদ্ধান্ত নেই।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বর্ণের দোকানের ডাকাতির পরিকল্পনা গ্রহণের অভিযোগে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সুপার্দ করেছে স্বর্ণ ব্যবসায় সমিতি নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।